মালদা

গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার শ্বশুর বাড়ি থেকে

গৃহবধূর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য এলাকায়। পুরাতন মালদার মহিষ বাথানি অঞ্চলের সহরা গ্রামের বাসিন্দা জীবন সরকারের বিয়ে হয়েছিল ব্যারাকপুরের টিটাগর থানা এলাকার বাসিন্দা অর্পিতা ঘোষের সঙ্গে। আজ থেকে প্রায় টিন বছর আগে তারা প্রেম ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল, তারপরেই বিয়ে। তাদের দুই মাসের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। 
    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া অশান্তি হত। অশান্তি এতটাই চরমে ওঠে যে, অর্পিতা তা সহ্য করতে না পেরে তার বাবার বাড়িতে যাবার জন্য সেখানে ফোন করে। কিন্তু আর বাবার বাড়ি যাওয়া হল না অর্পিতার। বুধবার রাতে অর্পিতার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয় তার শ্বশুর বাড়ি থেকে। 
    জানা যায়, বুধবার রাতে অর্পিতার শ্বশুর বাড়ি থেকে অর্পিতার বাবার বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই মেয়ের শ্বশুর বাড়ি পৌছায় অর্পিতার পরিবার। শোকের ছায়া নেমে আসে মৃতার পরিবারে। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
    অর্পিতার মা অনিতা ঘোষ জানান, অর্পিতা সল্টলেকে একটি কাজ করত। সেই একই জায়গায় কর্মরত ছিল জীবন সরকার। এরপরেই তিন দিনের আলাপের পর জীবন অর্পিতাকে নিয়ে পুরাতন মালদায় সহরা গ্রামে তার বাড়িতে নিয়ে চলে আসে। এই খবর জানতে পেরে অর্পিতার পরিবার তার মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর জীবন আবার অর্পিতাকে তার এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। এবং বিয়ে করে নেয়। বিয়ের প্রথম প্রথম সব কিছু ঠিক ঠাকই ছিল। এরপর কিছুদিন বাদে শুরু হয় অর্পিতার উপর অত্যাচার। অর্পিতার বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও জিনিস নিয়ে আসতে বলে জীবন। অর্পিতার পরিবার মেয়ের খুশীর জন্য ধীরে ধীরে সমস্ত কিছু দেবার পরেও জীবন অর্পিতাকে মারধর করত, না খাইয়ে রাখত, খাবার দিত না। অর্পিতার মা জানান গ্রামেরই এক মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল জীবনের। তার জন্যই অর্পিতাকে হত্যা করেছে জীবন। প্রশাসনের কাছে মৃতার মায়ের দাবি তার জামাই ও তার বাবা মা সকলকে শাস্তি দেওয়া হক। মেয়ে মৃত্যুর সুবিচার না পাওয়া গেলে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান মৃতার মা অনিতা ঘোষ।